বেনাপোল স্থলবন্দর: ভারত ভ্রমণের প্রবেশদ্বার ও সম্পূর্ণ গাইড 🗺️
১. ভূমিকা: ঐতিহ্যের সেতু, বাণিজ্যের ধমনী
আপনি কি ভাবছেন সড়কপথে ভারত ভ্রমণ করবেন? 🇮🇳 যদি আপনার উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে আপনার মনে প্রথম যে নামটি আসবে, সেটি হলো বেনাপোল স্থলবন্দর। এটি কেবল একটি চেকপোস্ট নয়; এটি বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। যশোর জেলার শার্শা উপজেলায় অবস্থিত এই বন্দরটি একদিকে যেমন দুই দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতীক, তেমনি অন্যদিকে হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু মানুষের স্বপ্নের শুরু। প্রতি বছর লাখ লাখ যাত্রী এই পথ দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। তাই বেনাপোলকে বলা হয় "বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের লাইফলাইন"।
ভারতের পেট্রাপোলের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত এই বেনাপোল স্থলবন্দরটি শুধু বাণিজ্যের জন্য নয়, এর অবকাঠামো, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা এবং আশেপাশের ভ্রমণ পরিবেশও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও এটি মূলতঃ একটি কাস্টমস স্টেশন, এর সাথে জড়িয়ে আছে বহু ঐতিহাসিক গুরুত্ব। আধুনিক সময়ে যাত্রীদের সুবিধা, দ্রুত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি দেশের অন্য যেকোনো স্থলবন্দর থেকে এগিয়ে। এই পোস্টে আমরা বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আপনার ভারত ভ্রমণের পরিকল্পনা, থাকার ব্যবস্থা, করণীয় এবং স্থানীয় দর্শনীয় স্থান সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ধাপে ধাপে জানব। আপনি যদি প্রথমবার এই রুট ব্যবহার করতে চান, তবে এই গাইডটি আপনাকে সম্পূর্ণ সাহায্য করবে।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, এই বন্দরটি এত জনপ্রিয় কেন? উত্তরটা সহজ: ভৌগোলিক নৈকট্য এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। ঢাকা, কলকাতা বা অন্য যেকোনো প্রধান শহর থেকে এখানে পৌঁছানো তুলনামূলকভাবে সহজ। এছাড়াও, বেনাপোলের মধ্য দিয়ে গেলে আপনি পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্র কলকাতা বা পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে দ্রুত পৌঁছাতে পারবেন। তবে সব কিছুর আগে দরকার সঠিক পরিকল্পনা। ভিসা, ডলার এনডোর্সমেন্ট এবং ইমিগ্রেশনের নিয়মগুলো ভালোভাবে জানা থাকলে আপনার যাত্রা মসৃণ হবে। এই গাইডটি আপনাকে প্রতিটি ধাপে নির্ভুলভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। 🤝
২. ভ্রমণ পরিকল্পনা: বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে যাওয়ার সঠিক নিয়ম 📝
বেনাপোল কেবল একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র নয়, এটি ভারত-বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও আতিথেয়তার প্রতিচ্ছবিও বটে। যশোর জেলার এই সীমান্ত দিয়ে প্রতি বছর প্রায় দুই মিলিয়নেরও বেশি যাত্রী পারাপার করে।
কিভাবে যাবেন (How to Get There) 🛣️
ঢাকা থেকে সরাসরি: ঢাকা থেকে বেনাপোল যাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো বাস। সোহাগ, গ্রিনলাইন, হানিফ, ইত্যাদি পরিবহন সংস্থাগুলো নিয়মিত নন-এসি এবং এসি বাস পরিষেবা দেয়। যাত্রা পথে সাধারণত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে।
ট্রেনে ভ্রমণ: আপনি যদি রেলপথে ভ্রমণ করতে চান, তবে ঢাকা থেকে প্রথমে যশোরে আসতে হবে। এরপর যশোর থেকে লোকাল বাস, সিএনজি বা ট্যাক্সিতে বেনাপোল পৌঁছানো যায় (প্রায় ৩২ কিমি)।
নিকটতম বিমানবন্দর: বেনাপোলের নিকটতম বিমানবন্দর হলো যশোর বিমানবন্দর। যারা দ্রুত পৌঁছাতে চান, তারা ঢাকা থেকে বিমানে যশোরে এসে সেখান থেকে সড়কপথে বেনাপোল যেতে পারেন।
খরচের আনুমানিক ধারণা (ঢাকা থেকে): বাসের ভাড়া সাধারণত ৮০০ টাকা (নন-এসি) থেকে ২০০০ টাকা (এসি) এর মধ্যে থাকে।
ভিসা ও প্রয়োজনীয় নথি 💼
ভারত ভ্রমণের জন্য আপনার বৈধ ভারতীয় ভিসা (ই-ভিসা বা স্টিকার ভিসা) থাকা আবশ্যক। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: আপনার ভিসায় এন্ট্রি পোর্ট হিসেবে অবশ্যই বেনাপোল/পেট্রাপোলের নাম উল্লেখ থাকতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজ: বৈধ পাসপোর্ট, ভিসার কপি, ডলার এনডোর্সমেন্ট স্লিপ (অন্তত ১৫০ USD), হোটেল বুকিংয়ের একটি মক ডকুমেন্ট (যদি থাকে), এবং পাসপোর্টের ডেটা পেজের কয়েক কপি ফটোকপি।
ট্রাভেল ট্যাক্স: ভারত ত্যাগ করার আগে ৫০০ টাকা ট্রাভেল ট্যাক্স জমা দিতে হবে। এটি সোনালী ব্যাংকের শাখায় অথবা অনলাইনে পরিশোধ করা যায়।
সেরা সময় ও নিরাপত্তা 🕰️
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভ্রমণ করার সেরা সময় হলো শীতকাল (অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি), কারণ এই সময়ে আবহাওয়া মনোরম থাকে। ইমিগ্রেশন দ্রুত সারতে চাইলে সকাল ৮:০০ থেকে ১১:০০ টার মধ্যে পৌঁছানো বুদ্ধিমানের কাজ। বেনাপোল স্থলবন্দরে দালালদের এড়িয়ে চলুন এবং আপনার ব্যাগপত্র নিজ দায়িত্বে রাখুন। কোনো সমস্যা হলে কাস্টমস বা ইমিগ্রেশন অফিসারের সাহায্য নিন।
৩. কোথায় থাকবেন: বেনাপোলে আরামদায়ক ও নিরাপদ আবাসন 🏨
বেনাপোল স্থলবন্দর যেহেতু একটি ব্যস্ত সীমান্ত এলাকা, এখানে থাকার জন্য তেমন বিলাসবহুল হোটেলের ব্যবস্থা নেই। তবে যাত্রীদের রাত কাটানো বা সাময়িক বিশ্রামের জন্য বেশ কিছু বাজেট-বান্ধব এবং মানসম্মত আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। মূলত যারা রাতে বা ভোরে ভারতে প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করেন, তাদের জন্যই এই ব্যবস্থা।
আবাসনের প্রকারভেদ ও সেরা এলাকা 🏘️
হোটেল ও রেস্ট হাউস: স্থলবন্দরের আশেপাশে কিছু ছোট ও মাঝারি মানের হোটেল এবং স্থানীয় গেস্ট হাউস রয়েছে। এগুলি সাধারণত পরিচ্ছন্ন এবং মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট।
পোর্ট সংলগ্ন এলাকা: সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি বন্দরের প্রবেশপথের কাছাকাছি কোনো হোটেলে থাকেন। এতে সকালে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সাথে সাথেই আপনি লাইনে দাঁড়াতে পারবেন।
যশোর শহর: যদি আপনি আরামদায়ক এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাযুক্ত পরিবেশে থাকতে চান, তাহলে বেনাপোল থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরের যশোর শহর আপনার জন্য সেরা বিকল্প। যশোরে বেশ কিছু মানসম্মত এসি হোটেল ও আন্তর্জাতিক মানের গেস্ট হাউস পাওয়া যায়।
কিছু প্রস্তাবিত স্থান (Mock Names) 💡
বেনাপোল: হোটেল গ্রীনভিউ, পোর্টভিউ রেস্ট হাউস (এগুলি সাধারণত ৫০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে রুম অফার করে)।
যশোর (Recommended): হোটেল ক্যাসেল সালাম, জাবীর ইন্টারন্যাশনাল। এই হোটেলগুলোতে ৩০০০ টাকা থেকে ৬০০০ টাকার মধ্যে ভালো কক্ষ পাওয়া যায়।
থাকার টিপস ও সতর্কতা ⚠️
বেনাপোলে থাকার সময় রুমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন। রাতে দেরি করে হোটেলে পৌঁছালে আগে থেকে বুকিং দিয়ে রাখা ভালো। এছাড়াও, স্থানীয় হোটেলগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং জলের প্রাপ্যতার বিষয়ে খোঁজ নিন। বেশিরভাগ সময়ই ভ্রমণকারীরা বেনাপোলে রাত না কাটিয়ে যশোরে থাকেন এবং ভোরে বেনাপোলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। আপনার যদি সকালে ইমিগ্রেশন শেষ করার তাড়া থাকে, তবে বেনাপোলেই থাকুন।
৪. দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রম: বেনাপোল এবং যশোর অন্বেষণ 🏞️
বেনাপোল স্থলবন্দর মূলত ট্রানজিট পয়েন্ট হলেও, এর আশেপাশের এলাকা এবং যশোর জেলা ভ্রমণের জন্য বেশ আকর্ষণীয়। আপনি যদি হাতে একদিন অতিরিক্ত সময় রাখেন, তবে এই ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক স্থানগুলি ঘুরে আসতে পারেন।
ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থান 🏛️
মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভিটা: যশোর শহর থেকে প্রায় ৪৪ কিমি দূরে সাগরদাঁড়িতে এই মহান কবির বাড়িটি অবস্থিত। এটি এক ধরণের ঐতিহাসিক আকর্ষণ যা আপনাকে বাংলা সাহিত্যের প্রতি আরো আগ্রহী করে তুলবে।
যশোর ইনস্টিটিউট: যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই স্থানটি স্থানীয় সংস্কৃতি ও বিনোদনের কেন্দ্র।
বেনাপোল চেকপোস্ট ম্যুরাল: সীমান্তের কাছাকাছি একটি সুন্দর ম্যুরাল রয়েছে, যা দুই দেশের সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের প্রতীক। রাতে এটি চমৎকার আলোয় ঝলমল করে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য 🌳
বেনাপোল পার্ক: যদিও খুব বড় কিছু নয়, তবে সীমান্ত এলাকার কোলাহল থেকে দূরে একটু নির্মল নিঃশ্বাস নিতে এই পার্কটি ভালো।
শ্মশান কালী মন্দির: ভারত-বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এই মন্দিরটি বেনাপোলের কাছেই অবস্থিত। এটি স্থানীয়দের কাছে খুবই পবিত্র স্থান।
নিয়ম ও টিকেট 🎫
বেশিরভাগ ঐতিহাসিক স্থানে প্রবেশমূল্য খুবই কম (সাধারণত ২০-৫০ টাকা)। মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভিটা সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এই স্থানগুলিতে যাওয়ার জন্য আপনি যশোর বা বেনাপোল থেকে স্থানীয় সিএনজি বা ইজিবাইক ভাড়া করতে পারেন। ভাড়ার ক্ষেত্রে দরদাম করে নেওয়া ভালো। অফ-বিট স্থান হিসেবে আপনি একটু ভেতরে গিয়ে স্থানীয় গ্রামগুলোর জীবনযাত্রা দেখতে পারেন, যা গ্রামীণ বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
৫. স্থানীয় খাবার: যশোরের মিষ্টি ও ঐতিহ্যবাহী স্বাদ 😋
যশোর ও বেনাপোলের আশেপাশের অঞ্চলে বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী এবং মজাদার খাবার পাওয়া যায় যা আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দময় করে তুলবে। এখানকার স্থানীয় খাবারগুলিতে গ্রামীণ বাংলার একটি বিশেষ স্বাদ খুঁজে পাওয়া যায়।
বিশেষ খাবার ও আইটেম 🍚
খেজুরের গুড় (Date Molasses): যশোর খেজুর গুড়ের জন্য বিখ্যাত। শীতকালে গেলে অবশ্যই এখানকার আসল নলেন গুড় বা পাটালি গুড় খেয়ে দেখবেন।
যশোরের বালিশ মিষ্টি: স্থানীয় এই মিষ্টিটি এর আকৃতির জন্য বিখ্যাত। এটি দেখতে বালিশের মতো এবং খেতে সুস্বাদু। এটি আপনার পরিবারের জন্য উপহার হিসেবেও নিতে পারেন।
ডালপুরি ও সিঙ্গাড়া: বেনাপোলের আশেপাশে রাস্তার পাশে ছোট দোকানগুলিতে তাজা ও গরম ডালপুরি এবং সিঙ্গাড়া পাওয়া যায়, যা সকালের নাস্তা বা হালকা স্ন্যাকস হিসেবে খুব জনপ্রিয়।
তাজা মাছের ঝোল: যেহেতু এটি গ্রামীণ এলাকা সংলগ্ন, তাই স্থানীয় পুকুর বা নদী থেকে ধরা তাজা মাছের বিভিন্ন পদ এখানে পাওয়া যায়।
সেরা রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফে 🍽️
বেনাপোলে উন্নতমানের রেস্টুরেন্টের সংখ্যা কম হলেও, যশোর শহরে কিছু ভালো রেস্তোরাঁ আছে।
জমজমের বিরিয়ানি: যশোরের জনপ্রিয় এই রেস্তোরাঁয় আপনি মজাদার বিরিয়ানি এবং অন্যান্য স্থানীয় খাবার খুঁজে পাবেন।
স্থানীয় ছোট হোটেল: বেনাপোল স্থলবন্দরের কাছাকাছি বেশ কিছু ছিন্ন হোটেল আছে যেখানে অল্প খরচে ভাত, ডাল ও মাছ/মাংসের ঝোল পাওয়া যায়। হাইজিন বা পরিচ্ছন্নতার দিকটা খেয়াল রেখে খাবার নির্বাচন করা ভালো।
খাবারের টিপস 🌶️
বেনাপোল বা যশোরে খাবারের বিল পরিশোধের সময় অবশ্যই স্থানীয় মুদ্রা (টাকা) ব্যবহার করুন। রাস্তার খাবার খাওয়ার আগে খাবারের গুণগত মান যাচাই করে নিন। গুড় কেনার সময় খাঁটি গুড় কেনার জন্য পরিচিত দোকান থেকে কিনুন। এটি আপনাকে স্থানীয় অভিজ্ঞতা দেবে।
৬. যাতায়াত: স্থানীয় পরিবহনে সহজভাবে চলাফেরা 🚌
বেনাপোল স্থলবন্দরের আশেপাশে বা যশোর শহরে স্থানীয় পরিবহণ ব্যবস্থা বেশ উন্নত এবং সাশ্রয়ী। আপনি কীভাবে সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাবেন, তার একটি ধারণা নিচে দেওয়া হলো:
স্থানীয় পরিবহন মাধ্যম 🚕
ইজিবাইক ও সিএনজি: বেনাপোল এবং যশোর শহরের মধ্যে চলাচলের জন্য ইজিবাইক এবং সিএনজি সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। এগুলি শহরের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যায় এবং ভাড়া তুলনামূলকভাবে কম।
রিকশা: ছোট দূরত্ব অতিক্রমের জন্য রিকশা একটি ভালো বিকল্প। রিকশা ভাড়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই দরদাম করে নেবেন।
লোকাল বাস: যশোর শহর থেকে বেনাপোল বা পার্শ্ববর্তী অন্যান্য উপজেলায় যাওয়ার জন্য লোকাল বাস চলাচল করে। এটি সবচেয়ে সাশ্রয়ী মাধ্যম, তবে সময় একটু বেশি লাগতে পারে।
রেন্টাল কার (Rentals): যদি আপনি পরিবার বা বড় দল নিয়ে ভ্রমণ করেন, তবে যশোর শহর থেকে আপনি দৈনিক ভাড়ার ভিত্তিতে প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাস ভাড়া নিতে পারেন।
ভাড়া ও রুট 🗺️
বেনাপোল টু যশোর: ইজিবাইকে জনপ্রতি ভাড়া ৬০-১০০ টাকা এবং সিএনজি/লোকাল বাসে ১০০-১৫০ টাকা।
শহরের অভ্যন্তরে: রিকশা বা ইজিবাইকে শহরের অভ্যন্তরে ছোট দূরত্বের জন্য ভাড়া ২০-৪০ টাকার মধ্যে থাকে।
অ্যাপ-ভিত্তিক ট্যাক্সি: যশোর শহরে এখন সীমিত পরিসরে অ্যাপ-ভিত্তিক ট্যাক্সি (যেমন: ওভাই, পাঠাও কার) পরিষেবা পাওয়া যায়, যা একটু বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিত করে।
গুরুত্বপূর্ণ টিপস 🚦
যানজট এড়াতে ছুটির দিন বা সপ্তাহের শেষে ভ্রমণ করার সময় সকালে বা সন্ধ্যায় যাত্রা করুন। বেনাপোল স্থলবন্দরের ভেতরে কোনো যানবাহন প্রবেশের সুযোগ নেই, তাই প্রধান গেট থেকে পায়ে হেঁটে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আপনার লাগেজ বহনের জন্য কুলির সাহায্য নিতে পারেন, তবে তাদের ভাড়া আগেই ঠিক করে নেবেন যাতে পরে কোনো ঝামেলা না হয়।
আপনার যাত্রা শুরুর আগে আবহাওয়া এবং বন্দরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি জেনে নেওয়া ভালো। যদি কোনো বিশেষ উৎসব বা ছুটির দিন থাকে, তবে বন্দরে যাত্রীর চাপ অনেক বেশি থাকে এবং ইমিগ্রেশন শেষ করতে বেশি সময় লাগতে পারে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি মাথায় রেখে হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে রওনা হন। শান্ত এবং হাসিখুশি মন নিয়ে যাত্রা শুরু করলে সীমান্ত পারাপারের সামান্য ঝুট-ঝামেলাও আপনার কাছে উপভোগ্য মনে হবে। বেনাপোল বন্দর পার হয়ে পেট্রাপোলে প্রবেশ করার সাথে সাথেই আপনার ভারত ভ্রমণ শুরু হবে। আমরা আন্তরিকভাবে আপনার একটি নিরাপদ ও আনন্দময় ভ্রমণের প্রত্যাশা করি। এই তথ্যগুলো আপনাকে আপনার স্বপ্নের গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। 🎉
প্রশ্ন ১: বেনাপোল স্থলবন্দর কতক্ষণ খোলা থাকে?
উত্তর: বাণিজ্যিক কার্যক্রম সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চললেও, যাত্রী পারাপার সাধারণত সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে। তবে উৎসব বা বিশেষ দিনে সময় পরিবর্তন হতে পারে।
প্রশ্ন ২: ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে গড়ে কত সময় লাগে?
উত্তর: ভিড় কম থাকলে সাধারণত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে ছুটির দিন বা পিক সিজনে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত লাগতে পারে।
প্রশ্ন ৩: ট্রাভেল ট্যাক্স কোথায় পরিশোধ করব?
উত্তর: ট্রাভেল ট্যাক্স সাধারণত সোনালী ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখায় বা বন্দরের আশেপাশে অনুমোদিত বুথে পরিশোধ করা যায়। অনলাইনে পরিশোধ করাই দ্রুততম উপায়।
প্রশ্ন ৪: বেনাপোল দিয়ে পার হওয়ার সময় কাস্টমসে কি কি ঘোষণা করতে হয়?
উত্তর: শুল্কযোগ্য পণ্য (যেমন: অতিরিক্ত ইলেকট্রনিক্স, নতুন কেনা দামি জিনিস) থাকলে তা কাস্টমস ফর্মে ঘোষণা করতে হবে। নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা বহন করলে তাও জানাতে হবে।
প্রশ্ন ৫: লাগেজ বহনের জন্য কুলির সাহায্য নেওয়া কি নিরাপদ?
উত্তর: হ্যাঁ, নিরাপদ। তবে তাদের সঙ্গে ভাড়ার চুক্তি আগেই করে নিন। কুলিদের একটি নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম ও আইডি কার্ড থাকে।
প্রশ্ন ৬: বেনাপোলে কি ভারতীয় রুপি বিনিময় করা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, বন্দরের কাছাকাছি বেশ কিছু অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ বা ব্যাংক বুথ রয়েছে, যেখানে আপনি ভারতীয় রুপি বা ডলার বিনিময় করতে পারবেন।
প্রশ্ন ৭: কোন ধরনের ভিসা নিয়ে বেনাপোল দিয়ে ভ্রমণ করা উচিত?
উত্তর: আপনার ভিসায় এন্ট্রি পোর্ট হিসেবে "By Road - Benapole" স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
প্রশ্ন ৮: ইমিগ্রেশনের জন্য কি ছবি লাগে?
উত্তর: না, সাধারণত পাসপোর্ট সাইজ ছবি লাগে না। তবে প্রয়োজনের জন্য কয়েক কপি ফটোকপি সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
প্রশ্ন ৯: বেনাপোল থেকে কলকাতা যেতে কত সময় লাগে?
উত্তর: পেট্রাপোল কাস্টমস শেষ হওয়ার পর কলকাতা পৌঁছাতে বাসে সাধারণত ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় লাগে।
প্রশ্ন ১০: বেনাপোলের আশেপাশে কি ভালো কোনো খাবার জায়গা আছে?
উত্তর: বেনাপোল মূলত চেকপোস্ট এলাকা, তাই সাধারণ মানের হোটেল পাওয়া যায়। ভালো রেস্টুরেন্টের জন্য আপনাকে ৩২ কিমি দূরের যশোর শহরে যেতে হবে।